রংপুরে দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিসির কোনো স্থায়ী বাস স্ট্যান্ড ও নিজস্ব ডিপো অফিস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারমুখী যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। ১৯৬১ সালে বিআরটিসির কার্যক্রম শুরু হলেও আজ পর্যন্ত রংপুরে স্থায়ী বাস স্ট্যান্ড ও ডিপোর জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ফলে সময়ে সময়ে অস্থায়ীভাবে বাস স্ট্যান্ড ও ডিপো অফিসের স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে, বর্তমানে মহাসড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা বিআরটিসির বাস স্ট্যান্ডের পাশেই রয়েছে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। এখান দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী, রোগী, স্বজন এবং কারাগারগামী মানুষ চলাচল করেন। ব্যস্ত মহাসড়ক পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে নানাবিধ দুর্ভোগ।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম না থাকায় বাসে ওঠানামা করতে গিয়ে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম সমস্যায় পড়ছেন। রোগীবাহী পরিবেশের পরিবর্তে এখানে দুর্গন্ধ ও বিশৃঙ্খলা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মতে, ওই এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও এ এলাকায় পরিকল্পিত বাস স্ট্যান্ড ও ডিপো না থাকায় চরম অবহেলার পরিচয় বহন করে। দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে সবার আশঙ্কা।
এদিকে বিআরটিসি রংপুর ডিপোর আর্থিক সংকটের কথাও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সময়ে ডিপো অফিস থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সেই চাপ নিয়েই কাজ করছেন।
এ বিষয়ে বিআরটিসি রংপুর ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডিপো অফিসের নিজস্ব আয় থেকে মাসিক প্রায় ৩৮ লাখ টাকা বেতন-ভাতা পরিশোধ করে আসছি। সুবিধাজনক সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা উল্টো কয়েক কোটি টাকা ঋণ করে গেছেন। সেই দায় নিয়েও আমরা উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।”
তিনি আরও জানান, “পুরাতন গাড়ি মেরামত করে বর্তমানে ৩৮টি বাস বিভিন্ন রুটে চালু রেখেছি। এর মাধ্যমে অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। মালিক সমিতির কারণে শুধু রংপুর-ধামুরহাট রুটে বাস চালানো যাচ্ছে না, সেটাও দ্রুত সমাধান হবে। বাস স্ট্যান্ড ও ডিপো অফিসের জন্য জায়গা প্রায় নির্ধারিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরো জানান যে আমরা নতুন যে বাস ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় রুটে নামিয়েছি তা খুবই দ্রুত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে থাকে ২ ঘন্টার মধ্যে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পৌঁছায়।
বিআরটিসির চালক ও কর্মচারীরাও জানান, স্থায়ী স্ট্যান্ড ও ডিপো হলে যাত্রীসেবা যেমন উন্নত হবে, তেমনি সংস্থার আয় ও সেবার মান বাড়বে। এখন দেখার বিষয়, কবে বাস্তবে রংপুরবাসী একটি পরিকল্পিত বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড ও ডিপোর সুফল পায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com