বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় নির্বাচন মানেই উত্তেজনা, শঙ্কা আর প্রত্যাশার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনটি যেন একটু ভিন্ন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। এই প্রথম এমন একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রকৃত অর্থে দুটি প্রধান দলের মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ—বাকি যেসব দল নির্বাচনের মাঠে রয়েছে, তাদের অনেকেরই আছে নেতা, কিন্তু নেই কর্মী; আছে নাম, কিন্তু নেই সাংগঠনিক শক্তি।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বহুদলীয় ব্যবস্থায়। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, রাজনীতি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বড় দুই দলের বাইরে থাকা অনেক দলই এখন কাগুজে অস্তিত্বে পরিণত হয়েছে। মাঠে আন্দোলন নেই, জনসম্পৃক্ততা নেই, ত্যাগী কর্মীর অভাব স্পষ্ট। ফলে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষের প্রশ্নও ততই বাড়ছে—এই নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ। ভোটারদের মাঝে এখনও এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তারা জানতে চায়—ভোট দিলে কি সত্যিই ভোটের মূল্য থাকবে? নির্বাচনের ফল কি জনগণের রায়েই নির্ধারিত হবে? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না পাওয়া গেলে নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য মোটেও সুখকর নয়।
রাজনীতিতে কর্মীর ভূমিকা অপরিসীম। নেতা তখনই শক্তিশালী হন, যখন তার পেছনে থাকে আদর্শে বিশ্বাসী, ত্যাগী কর্মীবাহিনী। কর্মীশূন্য রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না—ইতিহাস তার প্রমাণ দেয় বারবার। তাই শুধু নেতা আর ব্যানার দিয়ে নির্বাচন নয়, প্রয়োজন মাঠের রাজনীতি, মানুষের রাজনীতি।
সবশেষে বলতে হয়, এই নির্বাচন কী রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে অংশগ্রহণ, গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ওপর। দেশবাসী চায় একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন—যেখানে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠবে গণতন্ত্রের মর্যাদা। এখন শুধু অপেক্ষা—দেখা যাক, এই নির্বাচন ইতিহাসে কোন পাতায় স্থান করে নেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com