
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন বলে বুধবার এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এতে তেলসমৃদ্ধ দেশটির নতুন নেতার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ আরও স্পষ্ট হলো।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া প্রেসিডেন্টদের বাদ দিলে ডেলসি রদ্রিগেজ হবেন গত এক সিকি শতাব্দীরও বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করা ভেনেজুয়েলার প্রথম কর্মরত প্রেসিডেন্ট। কারাকাস থেকে এএফপি জানায়, বুধবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সংলাপে তিনি ‘ভীত নন’।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের মতপার্থক্য ও জটিলতার মুখোমুখি হতে এবং কূটনীতির মাধ্যমে সেগুলো সমাধান করতে আমরা কোনো ভয় ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের প্রক্রিয়ায় আছি।’ ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্কের নাটকীয় এই মোড়বদল আসে তখনই, যখন মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মাদকপাচার মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়।
রদ্রিগেজ অন্তর্র্বতী প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ভেনেজুয়েলার কর্তৃত্ববাদী ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সরকারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এখনও তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, যার মধ্যে সম্পদ জব্দও রয়েছে।
তবে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে এখনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর অবস্থান করলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির মধ্যস্থতার সুযোগ দিয়েছেন, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করেছেন এবং ডজনখানেক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রদ্রিগেজ শিগগিরই সফরে যাবেন, তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। ১৯৯০-এর দশকে হুগো শাভেজ ক্ষমতায় আসার পর ভেনেজুয়েলার কোনো কর্মরত প্রেসিডেন্টের এটিই হবে প্রথম দ্বিপক্ষীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর। এরপর থেকে ধারাবাহিক ভেনেজুয়েলা সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে এবং চীন, কিউবা, ইরান ও রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়াকে গুরুত্ব দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরটি নিশ্চিত না করলেও, এটি রদ্রিগেজের জন্য সরকারের ভেতরেই সমস্যা তৈরি করতে পারে, যেখানে কিছু কট্টরপন্থী এখনও ওয়াশিংটনের কথিত আঞ্চলিক সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এখনও দেশে প্রভাবশালী শক্তি; বিশ্লেষকদের মতে, রদ্রিগেজের প্রতি তাদের সমর্থন নিশ্চিত নয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র তেল পেতে থাকলে, রদ্রিগেজ ও দমনমূলক সরকারের বড় অংশকে ক্ষমতায় থাকতে দিতে ট্রাম্প আপাতত রাজি বলেই মনে হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ভেনেজুয়েলার নির্বাসিত বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে স্বাগত জানান।
প্রথমে মাচাদো ও দেশের শক্তিশালী সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর তার প্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও, মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, তাকে ‘কোনো না কোনোভাবে যুক্ত দেখতে পেলে তিনি আনন্দিত হবেন’। ওয়াশিংটনের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচন মাচাদোর দলই জিতেছিল, কিন্তু মাদুরো এর ফল চুরি করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রদ্রিগেজকে কাছে টানা এবং পূর্ণাঙ্গ সরকার পতনের পথে না যাওয়ার পেছনে ট্রাম্পের অনীহার একটি কারণ হলো ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পরের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি করতে না চাওয়া। কারাকাসের আন্দ্রেস বেলো ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ বেনিগনো আলারকন বলেন, ‘এই ধরনের হস্তক্ষেপমূলক অভিযান এবং স্থিতিশীলতার নামে সেনা মোতায়েন সবসময়ই খুব খারাপ পরিণতির দিকে গেছে।’
তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের ক্ষুব্ধ করেছে। তাদের দাবি, সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি ও সাধারণ ক্ষমা দিতে হবে এবং ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সূত্র: অনলাইন
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com