ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর মধ্যভাটির মানিকগঞ্জ জেলার কৃষিজমি রক্ষা ও দেশের খাদ্য সংকট নিরসনে গজারিয়া চকের জলাবদ্ধতা নিস্কাশনে কৃষিখাতকে ব্যাপক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে স্থায়ী সমাধানের জরুরি দাবি জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলার প্রান্তিক কৃষকেরা। প্রসঙ্গ, গজারিয়া চকের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে মানিকগঞ্জ জেলার গজারিয়া চকের মতো হরিরামপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শষ্য ভান্ডার ভাতছালার চক, দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগী চকেরও জমিগুলো উষর জমিনে পরিনত হবে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, গজারিয়া চকের গভীর ও অগভীর নলকুপের আওতায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জমিতে রবি মৌসুমে রবি ফসল এবং ইরি বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) মানিকগঞ্জ (ক্ষুদ্র সেচ) জোন সহকারী প্রকৌশলী তিতাস বলেন, বোকা কৃষকেরা ভূমিদস্যু ও মাটি খেকোদের খপ্পরে পড়ে জমির " টপসয়েল " ইটভাটায় বিক্রি করার ফলে বেশির ভাগ জমি নিচু হয়েগেছে। এতে জমিতে বৃষ্টি ও বন্যার পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পাশে মৎস্য ও বনবিভাগের সামনের রাস্তার সাথে খালের উপর বেশ কিছু ছোট ছোট কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় পানি চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি আরো বলেন, গজারিয়া চকের পানি নিষ্কাশনের জন্য ভুক্তভোগী প্রান্তিক কৃষকেরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্থায়ী সমাধানের জন্য আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসক জনস্বার্থে কৃষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক কাজ করতে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন (বাপাউ) উপ-বিভাগ -১ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল সিদ্দিকী বলেন, মানিকগঞ্জ জেলায় পোল্ডার ব্যবস্থা না থাকায় বেশির ভাগ চকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদের । তিনি আরো বলেন, নদী ও খাল খনন প্রথা অমান্য করে অপরিকল্পিত ভাবে নদীর বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গন ও কৃষি জমি উষর জমিনে পরিনত হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, সেওতা বান্দুটিয়ার ঐতিহ্যবাহী শহরখাল দিয়ে চকের পানি কালীগঙ্গা নদীতে প্রবেশ করতে না পারায় যথাসময়ে আবাদি জমিতে রবি ফসল বপনসহ ধান চাষেও চাষীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। যাহার ফলশ্রুতিতে গজারিয়া চকের চাষীদের নানান রকম দুর্ভোগসহ আর্থিক অভাবের মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বৃহত্তর ঢাকা জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় পর্যায় ) বড় আকারের পানি সংরক্ষণ অবকাঠামো (২০২০-২১) অর্থবছরে মানিকগঞ্জ বিএডিসির বাস্তবায়নে সদর উপজেলার পশ্চিম সেওতা মানরা খালের উপর অপরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিস্বার্থে সাবেক এমপি বাউল মমতাজ বেগমকে খুশি রাখতে মানিকগঞ্জ বিএডিসি মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের সামনে মিনি কালভার্ট নির্মাণ করেন। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, এই মিনি কালভার্ট কৃষকদের কোন উপকারে আসছে না। খালটি আবর্জনার ভাগারে পরিণত করেছে মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ্য । মশা মাছির উৎপাতে ও পচা দুর্গন্ধে এলাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে এতথ্য নিশ্চিত করেন সমাজের বিশিষ্ট জনেরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত