
দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে জাতীয় সংসদের দুটি আসন রয়েছে। পঞ্চগড়-১ ও পঞ্চগড়-২। এর মধ্যে তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড়-১ আসন। অন্যদিকে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড়-২ আসন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলের পর এই দুই আসনেও বিএনপি, জামায়াত জোটসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ভোটের মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের কাছে টানতে চলছে গণসংযোগ, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় সভা-সমাবেশে উপস্থিতিসহ ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন। দিন-রাত ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোটপ্রার্থনা করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
পঞ্চগড়-১ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জামায়াত জোটের (এনসিপি) সারজিস আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্র্টির মো. আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা, গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহাফুজার রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ফেরদাউস আলম, বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. সিরাজুল ইসলাম।
পঞ্চগড়-১ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপির তৎকালীন বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক স্পিকার প্রয়াত মির্জা গোলাম হাফিজ এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মো. মজাহারুল হক প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিএনপির হাতছাড়া হয় এ আসনটি। মাঝে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান নির্বাচিত হলেও পরবর্তী দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়।
এই আসনে এবার নারী ভোটারের পাশাপাশি তরুণদের ভোট বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের। এ ছাড়া নির্বাচনে না থাকা আওয়ামী লীগের ভোটারদেরও একটা ভূমিকা থাকবে এই নির্বাচনে। ভোটে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির ব্যারিস্টার নওশাদ ও এনসিপির সারজিস আলমের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। পঞ্চগড়-১ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৩ জন। এর মধ্যে হিন্দু ভোটার রয়েছেন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার এবং তরুণ ভোটার ৪০ থেকে ৪৫ হাজার।
পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনেও ইসলামি আন্দোলন-বিএনপি-জামায়াত ত্রিমুখী লড়াই হবে। জয়-পরাজয় নির্ভর করছে হিন্দু ভোটারদের ভোটের ওপর। এই আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ, জামায়াতের সফিউল আলম, বাংলাদেশ জাসদের এমরান আল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কামরুল হাসান প্রধান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. দেলোয়ার হোসেন। এখানে জাগপার প্রার্থী আল রাসেদ প্রধান মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও বাছাইয়ে তা বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফিরে পায়, তবে তিনি এবার নির্বাচন সরে গেছেন। জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান রিপন ও সিপিবির আশরাফুল আলমের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়ে যায়।
এই আসনে বিএনপি বেশ সুসংগঠিত। তাই জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেনের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সফিউল আলম বোদা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। সেখানে সনাতন সম্প্রদায়ের অনেক ভোট। নির্বাচনে সনাতন সম্প্রদায়ের ভোট বেশ ভূমিকা রাখবে। তাদের ভোট যে দিকে যাবে সেই প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অধ্যাপক এমরান আল আমিন বাংলাদেশ জাসদ থেকে প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠ গোছাচ্ছেন। জাসদ সাংগঠনিকভাবে এখানে শক্তিশালী না হলেও এমরানের পরিচিতি রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসনে দলের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. কামরুল হাসান প্রধানকে মনোনয়ন দিয়েছে, তবে তারও প্রভাব বিস্তার করছে পুরো পঞ্চগড়-২ আসন জুরে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com