পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. রেজওয়ানা হাসান বলেছেন, লক্ষাধিক কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। বর্গাচাষিরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এবং দফায় দফায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে জলবায়ু উপদেষ্টা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. রেজওয়ানা হাসান বলেন, “তিস্তা প্রকল্প আমাদের বাস্তবায়ন করতেই হবে। এটি কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের বিষয় নয়, বরং লক্ষাধিক কৃষকের জীবিকা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তবে বর্গাচাষিরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য আমরা অত্যন্ত সচেতন। এ বিষয়ে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, বর্গাচাষিরা এটি তাদের অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারেন না, কারণ প্রকল্পটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে। যারা সেখানে চাষাবাদ করছেন, তারা স্থায়ীভাবে ওই এলাকায় বসবাস করেন না। কেউ ভাড়া বা বর্গা নিয়ে চাষ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে তারা যেন বিকল্পভাবে চাষাবাদের সুযোগ পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
জলবায়ু উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা আট বিভাগের আটটি নদীকে বেছে নিয়ে ৫০ কোটি টাকার নিচে প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায়। দখল উচ্ছেদ নিয়ে সবসময়ই জটিলতা থাকে। তবে জনমতের চাপে আমরা যেমন ঢাকায় বুড়িগঙ্গার দখল উচ্ছেদ করতে পেরেছি, তেমনি তিস্তার ক্ষেত্রেও সরকারের অধিকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব।”
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বর্গাচাষিদের সম্পৃক্ত করা হবে। তারা যাতে প্রকল্পের অংশীদার হন, সে বিষয়ে সরকার কাজ করবে। একপর্যায়ে পুরো প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে মাঝখান থেকে কাজ শুরু করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে ধাপে ধাপে অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এতে সম্মতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় অসন্তোষ ও আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ডা. রেজওয়ানা হাসান বলেন, “ডিসির সামনে বসে এক কথা বলা আর পরে আনসার ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো আন্দোলনের ধরন হতে পারে না। এখানে একটি গোষ্ঠী আছে, যারা সাধারণ মানুষকে সামনে ঠেলে দিচ্ছে।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যেমন কিছু কারখানার মালিক শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে বা পরিবেশ দূষণ করে, পরে যখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন শ্রমিকদের সামনে ঠেলে দেওয়া হয়। তিস্তা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও তেমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।” পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “বুড়ি তিস্তা প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন করবেই। এটি কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ভাঙন রোধ, কৃষি সুরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণ প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল বুঝতে পারলে বিভ্রান্তি দূর হবে এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com