
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে কেউ বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
তিনি বলেছেন, ‘দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে আবার কখনও আন্দোলন তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন-অপহরণ, মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে, আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।’
তিনি বলেন, ‘তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে, ষড়যন্ত্র করে কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না।’
আজ শনিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কর্তৃক গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
সকাল সোয়া ১১টায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ নামক দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিনের বা রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যেসব মানুষরা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন, তাদের সত্যিকারভাবে যদি বলতে হয়, আপনাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা বোধ হয় আমাদের কাছে নেই। এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি।’
তিনি বলেন, ‘অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় আছে যে তাদের সেই গুম বা হারিয়ে যাওয়া পিতা হয়তো হঠাৎ করে তাদের দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষায় আছেন, তার গুম হয়ে যাওয়া প্রিয় সন্তানটি হঠাৎ করেই মায়ের সামনে এসে হাজির হয়ে মা বলে ডাকবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আগামী দিনে গণতান্ত্রিক যে রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা করছি, সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক অনেক দায় ও দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না। সব শহীদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে যে আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের সম্প্রতি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই। তবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে গণতন্ত্রকামী মানুষ যেন এই শহীদ বা এই গুম হয়ে যাওয়া সদস্য এখনো যাদের অপেক্ষায় আমরা আছি, এখনো যাদের অপেক্ষায় পরিবার রয়েছে, সেই শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে প্রেরণা লাভ করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, আজ আবারও এই স্বজনহারা মানুষগুলোর সামনে আমি তুলে ধরতে চাই, আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র গঠনে, সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা এই শহীদ পরিবারদের নামে রাষ্ট্রের-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার নামকরণ করব। যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শহীদদেরকে গৌরবের সঙ্গে স্মরণ রাখতে পারে।
আমাদের সামনে দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যাতে বাধাগ্রস্ত হয়। দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য আমি অনুরোধ করব, যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন, তারা যাতে সফল না হয়।’
এই মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন সারাদেশ থেকে আসা গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। বিগত ১৬ বছর ধরে গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের কথা শোনেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় স্বজনদের কান্না, আহাজারি আর গুমোট দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে ওঠে সভাস্থল।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি।
আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
সূত্র; অনলাইন
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com