প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ১:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ২:০৭ পি.এম
নিজেকে সরিয়ে নেওয়া নাছেরকে “জোর করে” মনোনয়ন দিচ্ছে এনসিপি – সাধারণ জনতার ক্ষোভ

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। তবে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে গাজীপুর-২ আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাছের—যিনি মাত্র ছয় দিন আগে নিজেকে এই আসনের জন্য ‘অযোগ্য’ দাবি করে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তৃণমূলের দাবি: ‘আমরা হোসেন আলীকে চাই’ গাজীপুর-২ আসনের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে বিরামহীনভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন হোসেন আলী। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জনগণের বিপদে-আপদে পাশে থেকে তিনি নিজের একটি অত্যন্ত শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। স্থানীয়দের মতে, হোসেন আলীই ছিলেন এই আসনে জোটের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং শক্তিশালী প্রার্থী।
মাঠের এই জনপ্রিয় নেতাকে উপেক্ষা করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ জনতা বলছেন, "মাঠের নেতা হোসেন আলীকে বাদ দিয়ে ‘নিজেকে অযোগ্য মনে করা’ নাছেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।" ভোটারদের মাঝে এই গুঞ্জন এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকার শফিক নামে এক সাধারণ ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জোটের উচিত এমন লোককেই মনোনয়ন দেওয়া যিনি জনবান্ধব। যিনি বিগত দিনে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছেন, মানুষ যেন তাকে অন্তত চিনে। যাকে আমরা চিনিই না, তাকে কেন ভোট দিতে যাব?"
গতকাল সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আলী নাছের মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তাঁর এই অংশগ্রহণকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। গত সপ্তাহে এক ফেসবুক পোস্টে নাছের নিজেই লিখেছিলেন যে, রাজনৈতিক ও পেশাগতভাবে তিনি নিজেকে আরও যোগ্য করতে চান এবং এই আসনের জন্য তাঁর চেয়েও যোগ্য প্রার্থীর প্রয়োজন রয়েছে। যদিও আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে রহস্যজনকভাবে সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আলী নাছেরকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমি আগে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে ও জোটের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।"
এদিকে মাঠের জনপ্রিয় নেতা হোসেন আলীকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।সাধারণ জনতার দাবি: ‘অপ্রস্তুত’ একজনকে প্রার্থী করার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এটি কেবল প্রার্থী নির্বাচন নয়, বরং জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। সাধারণ ভোটারদের মনে এখন একটাই সংশয়—তবে কি এই আসনটি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধানের শীষের প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়ার কোনো কৌশল চলছে?
গাজীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন হোসেন আলী বনাম আলী নাছেরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার বিতর্কে রূপ নিয়েছে। মাঠের নেতাকে ছাড়া সাধারণ জনগণের মন জয় করে আলী নাছের শেষ পর্যন্ত কতটা এগোতে পারবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে গভীর সংশয় রয়ে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত