
ভোর নামলেই চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে সাদা কুয়াশার ঘন চাদরে। কয়েক হাত দূরেও কিছু দেখা যাচ্ছে না। টানা কয়েকদিনের এমন ঘন কুয়াশায় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীত ও কুয়াশার যুগলবন্দিতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়ক, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খোলা মাঠ—সবকিছুই থাকে কুয়াশার আড়ালে। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে কাজে বের হলেও হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনের পথ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
কুয়াশার প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারছে না। শীতের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
অন্যদিকে কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কুয়াশা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তারা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ভোরবেলায় অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পাশাপাশি যানবাহন চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কবে কাটবে কুয়াশার এই দাপট—সেই অপেক্ষায় শ্রীবরদীর মানুষ। সূর্যের আলো ফিরলেই ফিরবে স্বস্তি, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে জনজীবন—এমন প্রত্যাশাই সবার।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com