সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
যার যার ধর্ম নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে পালন করবেন,সরকার এটাই প্রত্যাশা করে …. এমপি নুরুল তারাগঞ্জে অবৈধ চার দোকান উচ্ছেদ, জরিমানা ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা পীরগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরকে বলৎকার ॥ ১৫ মাসেও বিচার পায়নি অসহায় পরিবার বিমানবন্দরে প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী আটক দিনাজপুরে “বউ মেলা” জীবনসঙ্গী খুঁজতে আসবেন আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা! শিক্ষিত বেকার বাড়ছে:  কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি! সাঘাটায় তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম! কবিতা/আত্মোপলব্ধি /আসাদুজ্জামান খান মুকুল কালিহাতীর বল্লা হাটে পরিচ্ছন্নতা  অভিযান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে —জহির উদ্দিন স্বপন

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের অনুদানের টাকা আত্মসাৎ: দুর্নীতির বৃত্তচক্র ভাঙার আহ্বান

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪




চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে সরকারের অনুদান আত্মসাতের এক ভয়াবহ উদাহরণ সাম্প্রতিককালে আলোচিত হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সরকারী অনুদানের (জি ও বি গ্রান্ট) ৪র্থ কিস্তি ছাড়ের সময় তিন লক্ষ টাকা “বিবিধ খরচ” হিসেবে দেখিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই অর্থ সরাসরি নগদ পাঠানো হয় এস এ পরিবহন সার্ভিসের মাধ্যমে, যা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির কাছে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এই তথাকথিত “বিবিধ খরচ” আসলে কী, তার সঠিক হিসাব কিংবা স্বচ্ছতা নেই। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এখানে ক্ষমতায় থেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে চলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা নির্বাচনে নিজেদের আধিপত্য কৌশলে ধরে রেখেছেন, যাতে তাঁদের ক্ষমতার মেয়াদ অব্যাহত থাকে। হাসপাতালের তহবিল পরিচালনা ও সরকারি অনুদান বরাদ্দের ক্ষেত্রে এই সিন্ডিকেট অবৈধ উপায়ে দুর্নীতি এবং অনিয়ম করে চলছে। যেকোনোভাবে “বিবিধ খরচ” দেখিয়ে অনুদানের টাকা তোলার নামে জনগণের অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। দুর্নীতির এই মর্মান্তিক উদাহরণে সাধারণ জনগণ হতবাক ও ক্ষুব্ধ। অনেকেই মনে করছেন, হাসপাতালটি একপ্রকার ব্যক্তিগত জমিদারবাড়িতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদে থাকা ব্যক্তিরা সব ধরনের বিলাসবহুল সুবিধা ভোগ করছেন। হাসপাতালের গাড়ি সারাদিন তাঁদের কাজে ব্যবহৃত হয়, ঢাকায় যাতায়াতেও তাঁরা বিমানের সুবিধা পান। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ঢাকায় গোপনীয় লেনদেন ও নগদ অর্থপ্রাপ্তির জন্য এস এ পরিবহনের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করে আনতে এবং হাসপাতালটিকে রক্ষা করতে প্রয়োজন কঠোর তদন্ত। দৈনিক সকালের সময়, দৈনিক ভোরের আওয়াজ এবং ইংরেজি দৈনিক The Daily Banner-এর তদন্তে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, যা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরবে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপকর্মের বাস্তব রূপ। সময় এসেছে, যে সমাজসেবার নামে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাঁরা সত্যিকার অর্থে দায়িত্ব পালন করবেন, নাকি পদত্যাগ করে প্রকৃত সমাজসেবকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেবেন। জীবন ও দাতা সদস্যদের উচিত এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এবং হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদে প্রকৃত সমাজসেবকরা যেন নেতৃত্বে আসতে পারেন তা নিশ্চিত করা। শুধুমাত্র তখনই এই প্রতিষ্ঠানটি জনগণের প্রতি আসল সেবাদান করতে পারবে এবং এ ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে সমাজে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে সক্ষম হবে। এখনই সময়, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিচ্যুত করে প্রকৃত সেবক ও নিষ্ঠাবানদের দায়িত্বে নিয়ে আসার, যাতে জনগণের অর্থ জনগণের সেবায় ব্যবহৃত হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় একটি সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews