রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
দিনাজপুরে “বউ মেলা” জীবনসঙ্গী খুঁজতে আসবেন আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা! শিক্ষিত বেকার বাড়ছে:  কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি! সাঘাটায় তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম! কবিতা/আত্মোপলব্ধি /আসাদুজ্জামান খান মুকুল কালিহাতীর বল্লা হাটে পরিচ্ছন্নতা  অভিযান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে —জহির উদ্দিন স্বপন বান্দরবানের লামা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনা সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন এমপি নুরুল দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

রাউজানের দুই ফ ফ-হত্যার খেলার চ্যাম্পিয়নরা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪




রাউজান। শান্ত পাহাড়, সমৃদ্ধ কৃষি আর ঐতিহ্যের জন্য এই অঞ্চল একসময় গর্বের প্রতীক ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখানে জন্ম নেয় দুই কুখ্যাত নাম, যাদের হাতে রক্তাক্ত হয় এ মাটি। এরা হলেন ফজলে করিম চৌধুরী ও ফজল হক—দুই “ফ ফ” নামে পরিচিত এই দুই ব্যক্তি এখন রাউজানের মানুষদের আতঙ্কের কারণ। হত্যার খেলায় এরা পরিণত হয়েছে চ্যাম্পিয়নে।
ফজলে করিম চৌধুরী: রাজনৈতিক খুনের মুকুটহীন সম্রাট ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানে তার রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় রীতিমত এক ভীতিকর সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তাঁর হাতে রক্তাক্ত ইতিহাসের শুরু ১৯৮৯ সালে, যখন বাবর মুজিবকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি। সেই থেকে শুরু হয় একের পর এক রক্তাক্ত হত্যার কাহিনি। নুরুল আলম নুরু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো রাউজান স্তম্ভিত হলেও, ফজলে করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানে একপ্রকার নিজের জীবনকে বিপন্ন করা। তাঁর প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বছরের পর বছর ধরে এই হত্যাকাণ্ডগুলোর সঠিক বিচার হয়নি। তবে ভুক্তভোগীরা চুপ থাকেননি। তাঁদের দুঃখ, কষ্ট আর হতাশার কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে প্রবল হয়েছে, যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের বেদনার কথা শুনলে মন ভারী হয়ে আসে।
ফজল হক: রাউজানের আরেক আতঙ্ক ফজল হক—রাউজানের অপর এক অপরাধ সম্রাট, যার অপরাধকর্মের শুরু গশ্চির নোয়া হাটে ইকবাল জামিলকে হত্যা দিয়ে। ফজল হক একাধারে পলাতক আসামি এবং একাধিক হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির সাথে সরাসরি জড়িত। দিদার মার্কেট ও কামাল বাজারের স্বর্ণের দোকান ডাকাতির মতো বড় বড় অপরাধে তাঁর নাম উঠে এসেছে বারবার। ফজল হকের নাম শুধু স্থানীয় নয়, পুরো অঞ্চলের মানুষ জানে। তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আছে, যার মধ্যে অনেকেই সরাসরি এই নরপিশাচের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ফজল হকের নামে মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলছে, বিচার হয়নি—এই পরিস্থিতি শুধু তার ক্ষমতাবান অপরাধী জীবনকে আরো পাকাপোক্ত করেছে। দুই “ফ ফ” এর সাম্রাজ্য
ফজলে করিম ও ফজল হকের হত্যার খেলায় রাউজানের মাটি বহুবার রক্তাক্ত হয়েছে। এরা নিজেদের ক্ষমতা এবং প্রভাবের বলয়ে মানুষকে ভয় এবং শোষণের চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই দুইজনের অপরাধের গল্পগুলো স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ঘোরে। ফজলে করিম রাজনৈতিক প্রভাবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তাঁর অপরাধকর্ম চালিয়ে যান, অন্যদিকে ফজল হক অস্ত্র হাতে সরাসরি হামলা এবং হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এই দুইজনের বিষয়ে যতই খোঁজ নেওয়া হয়, ততই স্পষ্ট হয় যে রাউজানের মাটি তাদের শাসনের ভারে অনেক আগেই ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াতে চেয়েছে, তাদের ভাগ্য হয়েছে করুণ। বিচারহীনতা: শাস্তির দাবিতে মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ রাউজানের মানুষ বছরের পর বছর ধরে এই হত্যার বিচার চেয়ে নিরবে নিভৃতে কেঁদেছেন। তাঁদের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভের বাষ্প এখন আকাশ ছুঁই ছুঁই করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবতা, প্রভাবশালীদের মদদ এবং দুর্নীতি এই দুই “ফ ফ” এর অপরাধ সাম্রাজ্যকে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। আজ সময় এসেছে এই দুইজনের সকল অপরাধের হিসাব নেওয়ার। রাউজানের মানুষ তাদের প্রিয়জনদের হারানোর জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলছে, আর এই দীর্ঘশ্বাসই হবে ন্যায়বিচারের আগমনী সুর।
আমি প্রতিনিয়ত এই দুইজনের অপরাধের ওপর তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করছি। যদি কারো কাছে ফজলে করিম চৌধুরী বা ফজল হকের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকে, তবে আমাকে সহযোগিতা করার অনুরোধ রইল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews